কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ এ ১১:০৮ PM

ভাষা ও সংস্কৃতি

কন্টেন্ট: পাতা

মৌলভীবাজার এর ভাষাগত ঐতিহ্য

প্রমিত বাংলা ভাষা :

আমাদের বাড়ি মৌলভীবাজার। আমাদের জেলায় অনেক কিছু আছে। আমাদের জেলার অনেক মানুষ বিদেশে খাকেন । তারা অনেক কষ্ট করে বিদেশ থেকে টাকা পয়সা পাঠান । বিদেশে থাকলেও তাদের মন এদেশে পড়ে খাকে । বিদেশেযাওয়ার কারণেআমরা লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে গেছি। আমারদের জন্য এটা একটা বড় সমস্যা।

মৌলভীবাজার এর ভাষা :

আমরার বাড়ি মৌলভীবাজার। আমরার জেলাত বহুতা আছে। আমরার জেলার বহুত মানুষ বিদ্যাশ থাকুইন। তারা বহুত কষ্ট করিয়া বিদেশ থাকি পয়সা-কড়ি পাঠাইন। বিদ্যাশে থাকলেও তারার মন অনোপড়ি থাকে। বিদ্যাশে যাওয়ার লাগিআমরা লেখা পড়াত করলামছি। আমরার লাগি ওটা একটা মুটা সমস্যা।

ত্রিপুরা ভাষায়

চিনি নক মৌলভীবাজারও। চিনি আমচাইও কোবাং মানুই তংগু। চিনি আমচাইনি কোবাংকুক বরক ফাতার হাও তংগু। বরক দুকু খ্লাই ফাতার হানি রাং-রি র-হ-র। ফাতার হাও তংফানো বরকনি বখা সাকনি হাও তংগু। ফাতার হাও থাংমানি বাগই চুং রুং-শ্রুং মাও কোবাং উলজাক্খা। আবো চিনি বাগই কাইসা চায়াকক।

মণিপুরী ভাষায়

ঐখোয়গী য়ুম মৌলভীবাজারদনি। ঐখোয়গী জিলাদা অখন্নবা সিংথানিঙায় ময়াম লৈ। ঐখোয়গী জিলাগি মী ময়াম মীরৈপাক্ত লৈ। মখোয়না কন্ন ওয়ানা সু নোম্দুনা ইরৈপাক্ত সেল থারক্লি। মীরৈপাক্ত লৈরসু ওয়াখল থম্মোয়দি ইরৈপাকপু কোন্দুনা লৈ। মীরৈপাক্ত সেন্দান লম্বি চৎপনা ঐখোয় লাইরিক লাইসুদা য়াম্ন সোৎথখ্রে। মসি ঐখোয়গী য়াম্ন চাওরবা অপন্বনি।

মৌলভীবাজারের সংস্কৃতি

লোকসংগীত :

যুগ যুগ ধরে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ তাদের অনুভূতি ও জীবনদর্শনকে কথা ও সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে যা আজ লোকসংগীত নামে পরিচিত। বাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সব আশা-আকাঙ্ক্ষাই লোকগানের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে, যার মূল শক্তি সহজ স্বাভাবিকতা।

মৌলভীবাজারের লোকসংগীত হিসেবে বারোমাসি, সারি/সাইর/হাইর গান, হুরি/ফাগুয়া/ দোলের গান, জারি গান, বাউল গান, মঙ্গলা গান, কীর্তন, গাজির গান, মনসাপূজার গান, ধামাইল ও বিয়ের গান, মুর্শিদি/ফকিরি গান, শোকগাথা, সহজিয়া, গাঞ্জার গান ইত্যাদি প্রসিদ্ধ। নিত্যদিনের কাজকর্মে কিংবা কোন উৎসব পার্বণে এগুলোই হয়ে উঠে মূল উপজীব্য।

লোকবাদ্যযন্ত্র:

এ অঞ্চলে বাদ্যযন্ত্রের খুব বেশি বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায় না। তবে খাসিয়ারা মৃতদের সৎকারের সময় 'শারতী' বাঁশি নামে বিশেষ বাঁশি বাজিয়ে থাকে। মণিপুরীদেরও আছে নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র যেমন, কাঠের তৈরি পুং (মৃদঙ্গের মতো), মন্দিলা, তৌদ্রি (বাঁশি), মোইবুং, শেম ইত্যাদি।

লোকউৎসব :

মৌলভীবাজার জেলায় বারো মাসে তেরো পার্বণের মত লোকউৎসব হয়। হিন্দু-মুসলিম উভয়ের সম্মিলিত কিছু উৎসব আছে, এছাড়া আলাদা ধর্মীয় উৎসবও রয়েছে। আছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের নিজস্ব আচার আয়োজন। শারদীয় দুর্গোৎসব, পৌষ পার্বণ, রাখাল শাহের আসন, রাখালতলা ও ভৈরবতলার উৎসব, ওরস, আশুরা, মণিপুরী রাস উৎসব, রথযাত্রা, ওয়ানগালা ইত্যাদি উৎসব প্রধানত পালিত হয়।

লোকমেলা:

বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে নানান ধরণের মেলার আয়োজন হয় এবং এসব মেলায় প্রচুর লোক সমাগম হয়। যেমন চড়কপূজার মেলা/ চৈত্র সংক্রান্তির মেলা, বারুণী মেলা, বৈশাখ মেলা, শাহ মোস্তফার মেলা, শেরপুরের মাছের মেলা, মাধবকুণ্ড বারুণী মেলা ইত্যাদি।

লোকনৃত্য :

মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে নৃত্য। মণিপুরীরা নৃত্যকে বলে 'জাগাই'। এটি অত্যন্ত প্রাচীন শাস্ত্র হিসেবে স্বীকৃত। তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নৃত্য হলো রাসনৃত্য। এটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন শ্রীকৃষ্ণ। কোমলতা ও নম্রতা এই নৃত্যের বিশেষত্ব। বিবাহ উপলক্ষ্যে থাবানচৌবি নাচ হয়। পাঙন বা মুসলিম মণিপুরী যুবক-যুবতীরা এই নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। চা বাগানের তেলেগু সম্প্রদায়ের লোকেদের মধ্যে প্রচলিত হলো কাঠি নাচন। ফাল্গুন মাসে সাধারণত এর আয়োজন করা হয়।

লোকক্রীড়া :

ক্রীড়া জীবের সহজাত প্রবৃত্তি। বর্তমানে ক্রিকেট আর ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় হারিয়ে গেছে অনেক আঞ্চলিক খেলা। মৌলভীবাজার জেলায় লাই খেলা, নন দাঁইড়, ডাংগুটি, সাতঘর, গোল্লাছুট, বন্দি, বাঘবের, মঙ্গলকাটা, ফেছকুনার লেঞ্জ, নৌকা বাইচ, লাঠিখেলা, কুস্তি/ছটা/ ছটাক টানা, দুন্দিঘিলা ইত্যাদি খুব জনপ্রিয় খেলা। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের নিজেদের বিভিন্ন খেলার প্রচলন রয়েছে। গারো সমাজের অতি প্রাচীন এক খেলার নাম 'ছেলেখেলা'। গারো ভাষায় কুস্তিকে বলা হয় গ্রিকা। চা বাগানে দৌড় খেলা, গদা খেলা, কুস্তি ও মোরগ লড়াই খুবই প্রচলিত। সাঁওতালদের জনপ্রিয় খেলা হলো তির ছোঁড়া। মুসলিম মণিপুরীদের জাতীয় খেলা হলো কাং।

ধাঁধা ও প্রবাদ প্রবচন:

এগুলো লোকসাহিত্যের বিশেষ শাখা যা নিত্যদিনের কাজকর্মের সাথে সম্পর্কিত। প্রবাদ ভাষার এক অমূল্য সম্পদ। মৌলভীবাজারের মানুষজন তাদের কথাবার্তায় প্রচুর প্রবাদের ব্যবহার করে থাকে। আঞ্চলিক ভাষায় ধাঁধাকে বলা হয় ডিঠান/ হেঁয়ালি /পই/ছিলক। কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেয়া হলো:

ধাঁধা

১. আয়রে ভাই পাহাড় যাই পাহাড়ে গিয়া ঘর বানাই। ঘর হলো কোটা কোটা পানি পড়ে ফুটা ফুটা। উত্তর - মৌমাছির চাক ২. লখঠন থাকে কপঠন খায়, কাঁঠিয়া দিলে হাঁঠিয়া যায়। উত্তর - আমের পোকা

প্রবাদ- প্রবচন

১. পুয়া মুরব্বি ডেকি গাই, এ দেশে বসতি নাই।

অর্থ - পিতার অবর্তমানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের মুরুব্বিয়ানা।

২. আত্তির পিছলে পাও, সুজনেরও ডুবে নাও।

অর্থ - শক্তিশালী লোকও বিপদে পড়ে।

৩. অপাৎপদা হয়িং থাজনবা। (মণিপুরী)

অর্থ- স্বেচ্ছায় নিজের বিপদ ডেকে আনা৷

৪. কাদি আকাম কা দুহ্‌ নার। (খাসিয়া)

অর্থ- নেয়ার চেয়ে দেয়া ভালো

৫. ঘরে ভূঁজি ভাঙ্গ নহি, দরি বিছানাও (চা জনগোষ্ঠীর)

অর্থ- ঘরে খাওয়ার কিছু নাই, মখমলের বিছানা ব্যবস্থা।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন