কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১২:৩১ PM
কন্টেন্ট: পাতা
গণশুনানি
গণশুনানি হচ্ছে সরকারী সেবা প্রত্যাশী জনগণ এবং সেবা প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংযোগের একটি প্রক্রিয়া। গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকেন। গণশুনানিতে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারী পরিষেবা প্রাপ্তিতে হয়রানির মূলে রয়েছে নাগরিক অসচেতনতা এবং কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সেবা প্রদানে সময়-সীমা অনুসরণ না করা। গণশুনানি স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত ,জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ (UNCAC) এর ১৩ অনুচ্ছেদে দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজের (সুশীল সমাজ, এনজিও, গণমাধ্যম ইত্যাদি) অংশগ্রহণ এবং তথ্য প্রাপ্তি ও রিপোর্টিং এর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, ২০১২-এ নাগরিকের দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। চতুর্থত, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালে সরকারি সেবা প্রদানে গণশুনানি একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় হলো নাগরিকের ক্ষমতায়ন যা গণশুনানি ও অন্যান্য সামাজিক দায়বদ্ধতা পদ্ধতিসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব।
সুপ্রাচীন কাল থেকেই ঐতিহ্যগতভাবে জেলা প্রশাসকগণ জন কল্যাণার্থে জনগণের সাথে গভীরভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করে আসছেন। আধুনিক জন প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে জনগণের সমস্যা সম্ভবনা নিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জনগণের সভা নামে জেলা প্রশাসকের সাথে জনগণের আলোচনা/সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।জনগণের সমস্যা সমূহ শ্রবণ ও সেগুলোর সমাধানকল্পে প্রতি সপ্তাহের বুধবার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এই গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক জনগণের অভাব, অভিযোগ, আবেদন, নিবেদন শুনছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয়সমূহ নিষ্পত্তি করে জনগণকে সেবা প্রদান করছেন। যে সকল সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান প্রদান করা সম্ভব হয় না সেগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/বিভাগ কর্তৃক তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।পাশাপাশি প্রতিদিনের সাক্ষাৎ প্রত্যাশীদের সমস্যাসমূহ শ্রবণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এছাড়াও টেলিফোনে বা লিখিতভাবে বিভিন্ন দপ্তর/ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে জনগণের অভাব, অভিযোগ, আবেদন, নিবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। গণশুনানির সিদ্ধান্তসমূহ লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। আপনি আপনার কোনো সমস্যা বা বিষয় প্রতি বুধবার অনুষ্ঠিত জনগণের সভায় জেলা প্রশাসককে জানাতে পারেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের দপ্তরের নিচতলায় ফ্রন্ট ডেস্কে ও যোগাযোগ করতে পারেন ।
গণশুনানির উদ্দেশ্য
সেবা প্রত্যাশী নাগরিকের অভিযোগ সরাসরি শ্রাবণের মাধ্যমে সেগুলো সেবা প্রদানকারী দপ্তর কর্তৃক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা;
প্রতিটি সরকারি দপ্তরে নাগরিক সনদের ভিত্তিতে নাগরিকদেরকে প্রদেয় বিভিন্ন সেবার মান উন্নত করা;
নাগরিক অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা;
সেবা প্রত্যাশী নাগরিক এবং সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা;
অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দীর্ঘসূত্রিতার উৎসমূল চিহ্নিত করা।
গণশুনানির তাত্ত্বিক কাঠামো
বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০০৪ এ বর্ণিত সামাজিক দায়বদ্ধতা কাঠামো গণশুনানির তাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ কাঠামো অনুযায়ী সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজন
নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকের শক্তিশালী কন্ঠসর (Voice),
নাগরিকগণ কর্তৃক সেবা প্রদানকারীদের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ (Citizen power) এবং নাগরিকের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নীতি নির্ধারক কর্তৃক সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রণোদন কাঠামো প্রবর্তন। গণশুনানির মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীকে নাগরিকের নিকট প্রত্যক্ষভাবে দায়বদ্ধ করা বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হয়েছে (দায়বদ্ধতার স্বল্প পথ)।
গণশুনানির আইনগত কাঠামো
সংবিধানের বিধানসমূহ:
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০(২) “রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে সমর্থ হবে না............”।
- অনুচ্ছেদ ২১(২) “সকল সময়ে জনগনের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য”
তথ্যসূত্র-
সরকার অনুমোদিত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল। ২০১২
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ১ জুন ২০১৪ ও ৫ জুন,২০১৪ তারিখের অফিস স্মারকদ্বয়
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯
তথ্য প্রদানকারী সুরক্ষা আইন, ২০১২