কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ০৬:৫১ PM
কন্টেন্ট: পাতা


| স্থানের নাম | হাকালুকি হাওর |
| এক বাক্যে পরিচিতি | বিস্তীর্ণ জলরাশি, অসীম প্রাণের ছন্দ এই হাওর। |
| সংক্ষিপ্ত বর্ণনা | হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর। মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হাকালুকি হাওর অবস্থিত। পূর্বে পাথারিয়া পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল নিম্নাঞ্চল জুড়ে হাকালুকি হাওর অবস্থিত। এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর। এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা (৪০%), কুলাউড়া (৩০%), এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে (১৫%), গোলাপগঞ্জ (১০%) এবং বিয়ানীবাজার (৫%) জুড়ে বিস্তৃত। ভূতাত্ত্বিকভাবে এর অবস্থান, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ। ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে উজানে প্রচুর পাহাড় থাকায় হাকালুকি হাওরে প্রায় প্রতি বছরই আকষ্মিক বন্যা হয়। এই হাওরে ৮০-৯০টি ছোট, বড় ও মাঝারি বিল রয়েছে। শীতকালে এসব বিলকে ঘিরে পরিযায়ী পাখিদের বিচরণে মুখর হয়ে উঠে গোটা এলাকা। এ বিশাল জলরাশির মূলপ্রবাহ হলো দুটো প্রধান নদী জুড়ি ও ফানাই, বর্ষাকালে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর সংলগ্ন সমগ্র এলাকা প্লাবিত হয়ে সাগরের রূপ ধারণ করে। হাওরের স্থায়ী জলাশয়গুলোর পানিতে নিমজ্জিত, ভাসমান, জলজ, তৃণ ও দূর্বা ঘাস এবং নল খাগড়াজাতীয় উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। শীতকালে মৎস্য আহরণ এবং অতিথি পাখিদের আগমন পর্যটকদের চিত্তাকর্ষণ সার্থক করে তোলে। হাকালুকি হাওরে ৫২৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪১৭ প্রজাতির পাখি, এর মধ্যে ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি ও ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি। এছাড়া ১৪১ প্রজাতির অন্যান্য বন্যপ্রাণী, ১০৭ প্রজাতির মাছ, তন্মধ্যে ৩২ প্রজাতির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাণী বিপন্নপ্রায়। এছাড়াও রয়েছে নানাধরনের কীট-পতঙ্গ, জলজ ও স্থলজ ক্ষুদ্র অনুজীব। হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা বিবেচনা করা হয়। এই জলাভূমির সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং টেকসই ব্যবহারের জন্য রামসার এলাকা হিসেবে এটি সংরক্ষিত । |
| দূরত্ব | ঢাকা থেকে প্রায় ২৭০ কি.মি. মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কি.মি. শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ৯০ কি.মি. যোগাযোগ মাধ্যম- ট্রেন, বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিক্সা |
| কিভাবে যাবেন | ঢাকা থেকে কুলাউড়া বাস বা ট্রেনে এসে কুলাউড়া থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সায় হাকালুকি হাওর যাওয়া যায়। কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন হতে বড়লেখাগামী সিএনজি/ঢাকা হতে বিয়ানীবাজারগামী বাস/মৌলভীবাজার হতে বড়লেখাগামী বাসযোগে বড়লেখা নামতে হবে। বড়লেখা থেকে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে হাল্লা গ্রামে হাওড়ের পাড়ে যাওয়া যায়। জুড়ী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন জুড়ী বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ মুমিত আসুক চত্ত্বর (সাবেক নাইট চৌমুহনা) হতে স্থানীয় সিএনজি, অটোরিক্সার মাধ্যমে যাতায়াত করা যায়। |
| পার্শবর্তী দর্শনীয় স্থান | ওয়াচ টাওয়ার, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন চা বাগান ও অন্যান্য |
| পার্শ্ববর্তী রেস্টুরেন্ট | শাহী রেস্টুরেন্ট কবির হোটেল কুমিল্লা রেস্টুরেন্ট, চৌমুহনা, জুড়ী ফুডল্যাব, কামিনীগঞ্জ বাজার, জুড়ী ও অন্যান্য |
| পার্শ্ববর্তী হোটেল | ১। জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, জুড়ী ২। জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, মাধবকুন্ড। ৩। জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, উপজেলা চত্বর, বড়লেখা ৪। হোটেল মুসাইদ, বড়লেখা, হাজিগঞ্জ বাজার। ৫। আল-আমিন বেডিং, বড়লেখা, হাজিগঞ্জ বাজার ও অন্যান্য |
| ঝুঁকিসমূহ | ঝড়ের সময় নৌকা ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক দুর্বল বা নেই, যা জরুরি সময়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। |
| ম্যাপ (জিপিএস লোকেশন) | |
| পরামর্শ | ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখুন। প্রয়োজনীয় সেফটি সরঞ্জামাদি সাথে রাখুন। বর্ষায় ভ্রমনে সাঁতার জানা ভালো। |