মেনু নির্বাচন করুন

মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন আকর্ষণীয় স্থান ও ইহার বৈশিষ্ট্য সম্বলিত সচিত্র প্রতিবেদন-১

 ১. গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পাঁচ তারকা মানের একটি হোটেল রয়েছে। যার নাম হচ্ছে ‘গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ’। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আন্তর্জাতিক মানের অতিথি সেবা প্রদান করে আসছে এবং এতে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলন, এডিবি সম্মেলন, বিশ্ব  ব্যাংক সম্মেলন ছাড়াও বিভিন্ন দেশী-বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়ে

 

 ২. লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে লাউয়াছড়া পার্কের ভেতর আড়াই হাজারেরও অধিক প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। যার মধ্যে একাধিক প্রাণীর  দেশের অনান্য বনে প্রায় বিলুপ্ত। এছাড়াও ১০ প্রজাতির সরিসৃপ, বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, বানর, সিভিট কেটসহ অর্ধশত প্রজাতির জীবজন্তু রয়েছে। এর ভিতরে রয়েছে কয়েকটি খাসিয়া পুঞ্জি, পার্কের পাহাড় বস্তিৃত লম্বা বৃক্ষে খাসিয়ারা খাসিয়া পানের চাষ করে। পার্কের এক পাশে রয়েছে আনারসের বাগান, এক পাশে চায়ের বাগান আবার কোথাও রয়েছে লেবুর বাগান। জঙ্গলের ভিতর রয়েছে কয়েকটি পাহাড়ি ছড়া। পুরো ন্যাশনাল পার্কটি শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ পাকা মহাসড়ক ও সিলেট আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের রেললাইন দ্বারা ৩ খন্ডে বিভক্ত। কিন্তু রেললাইন ও পাকা সড়ক দ্বারা বিভক্ত হলে ও পার্কের ভিতর তেমন কোনো বাড়ি-ঘর নেই।

 

৩.মাধবপুর লেইক

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর চা বাগানে লেকটির অবস্থান। এটি শ্রীমঙ্গল থেকে ১৫ কিঃমিঃ পুর্বে  অবস্থিত। মাধবপুর লেকের ঝলমল পানি, ছায়াসুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি মনোমগ্ধকর করে তুলে। এ লেকে নিচে রয়েছে হাজার হজার জীবন্ত গাছ। শত বছর আগে পাহাড়ী পানি জমে এর সৃষ্টি। ব্রিটশ আমলে ইংরেজরা সেখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকায় এবং সে পানিতে তারা স্পীড বোট ও নৌকা চড়তো । শত বছর আগেই ব্রিটশরা এ স্থানে বিনোদনের খোড়াক মেটাতো। ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে এ লেকের বাঁধ ভেঙ্গে সব পানি চলে গিয়েছিল। পরর্বতীতে পাঞ্জাবী এক বাগান ব্যাবস্থাপক পাথর এনে শক্ত করে  এখানে বাঁধ দেন এর পর থেকে আর বাঁধ ভাঙ্গেনি। এখানে রয়েছে ১০/১২ কেজি ওজনের বড় বড় মাছ। শ্রীমঙ্গল পরিবেশবিদ সিতেশ রঞ্জন দেব ব্যাক্তি উদ্যোগে এ লেকে হাজার হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন।

 

৪. হাকালুকি হাওড়

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত। পূর্বে পাথারিয়া পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল নিম্নাঞ্চল জুড়ে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত। এ বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো দুটো প্রধান নদী জুড়ি ও ফানাই, বর্ষাকালে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে হাওড় সংলগ্ন সমগ্র এলাকা প্লাবতি হয়ে সাগরের রূপ ধারণ করে। হাকালুকি হাওড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ছোট বড় মাঝারী বিল রয়েছে। হাওড়রে স্থায়ী জলাশয়গুলো পানিতে নিমজ্জিত, ভাসমান, জলজ, তৃণ এবং দূর্বাঘাস এবং নল খাগড়া জাতীয় উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। শীতকালে মৎস্য আহরণ এবং অতিথি পাখিদের আগমন পর্যটকদের নয়নমন সার্থক করে। উক্ত হাওড়কে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষনা করে ইতোমধ্যেই পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে।

 

৫.মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

 মৌলভীবাজার জলোর বড়লখো উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয়। এ জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। জলপ্রপাতের চতুর্দিকে বিশাল বনভূমি অবস্থিত। মাধবকুন্ড ইকোপার্কে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটে। তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।

 

 

৬. বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গলে অবস্থতি বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এক সময় শুধু শীত কালে এখানে অতিথি পাখি আসতো কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বাইক্কা বিল পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। বার মাসই সেখানে পাখি দেখা য়ায়। শুধু পাখি নয় এখানে রয়েছে বড় বড় দেশীয় প্রজাতির মাছ তাও সম্ভব হয়েছে এখানে মাছের স্থায়ী আভয়াশ্রম গড়ে তোলায়। সেখানে পাখি দেখার জন্য নির্মিত হয়েছে একটি র্পযটন টাওয়ার। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র পর্যটন টাওয়ার। এ টাওয়ারটি নির্মান করা হয়েছে শুধু মাত্র পাখি দেখার জন্য। টাওয়ারটি ৩তলা বিশিষ্ট। প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে ১টি করে শক্তিশালী বাইনোকোলার।


Share with :

Facebook Twitter