মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

জেলা ব্র্যান্ডিং মৌলভীবাজার


জেলা ব্র্যান্ডিং মৌলভীবাজার এর কর্ম-পরিকল্পনা

চায়ের দেশ-মৌলভীবাজার

১. ভূমিকা

অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এদেশে বিরাজমান প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশের কাতারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং কেন্দ্রমুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে অঞ্চলভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলই ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিক দিয়ে স্বকীয় বা অনন্য। অন্যান্য জেলার মত মৌলভীবাজার জেলাও রয়েছে কিছু স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য । মৌলভীবাজার জেলার অন্যান্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে জেলাটিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ, সফল বিনিয়োগের মাধ্যমে জেলা ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে তা জেলাটির পরিচিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করতে পারবে। এর ফলে রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনাময় উৎস সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন এক মাত্রা।

২. জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্য

মৌলভীবাজার জেলার চলমান উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাসমূহকে বিকশিত করার মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে জেলাকে তুলে ধরা জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। ব্র্যান্ডিং মৌলভীবাজার জেলাকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপকল্প দেবে যা গৃহীত কর্মপরিকল্পনার সুসংগঠিত বাস্তবায়নে সাহায্য করবে। এরই মাধ্যমে জেলা ব্র্যান্ডিং মৌলভীবাজার জেলাকে একটি গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহ হলো:

  • ভিশন-২০২১ ও  ২০৪১ অর্জনে জেলার সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বেগবান করা ;
  • জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণের মাধ্যমে দেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিত করে তোলা ;
  • জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ সাধনসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলা ;
  • জেলা ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে এ জেলা তথা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা ;
  • স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি করা ;
  • জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণকে উন্নয়নের মহাসড়কের সহিত সম্পৃক্ত করা ;
  • জেলার দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব দুর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ;
  • পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধনের মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত করা বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি,  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত দর্শনীয় স্থানের উন্নয়ন।

৩. জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয়

পর্যটনকে কেন্দ্র করে ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং চা বাগানকে সম্পৃক্ত করে জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে ।

৪.  পর্যটন কে ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয় হিসেবে নির্বাচনের যৌক্তিকতা

বাংলাদেশের ৭টা টি ভ্যালীর মধ্যে সিলেট বিভাগে রয়েছে ৬টি ভ্যালী। এই ৬টি ভ্যালীতে মোট চা বাগানের সংখ্যা ১৩৮টি। তার মধ্যে মৌলভীবাজার জলোয় রয়েছে ৯২ টি চা বাগান। যার কারণে মৌলভীবাজারকে চায়ের রাজধানীও বলা হয়। সবুজ শ্যামলে মাখা দেশের সবচেয়ে বেশী  চা বাগানের নান্দনিক সৌন্দর্য মৌলভীবাজারকে পরিচিতি এনে দিয়েছে প্রকৃতি কন্যা হিসেবে। চা বাগানরে নর্সৈগকি সৌর্ন্দয্য, চায়রে গাছ থকেে পাতা উত্তোলন থকেে প্রক্রয়িাজাতকরণ এবং চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমকি হসিবেে নয়িোজতি বভিন্নি নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা ও সংস্কৃতি র্পযটকদরে কাছে আর্কষনীয়। চা কে জলো ব্র্যান্ড করা হলে নম্নিোক্ত ক্ষত্রেে তা গুরুত্বর্পূণ ভূমকিা পালন করবে :

  • পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলার সর্বস্তরের জনগণের জীবনমান উন্নত হবে ;
  • বিপুল সংখ্যক স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে ;
  • পর্যটন  শিল্পকে কেন্দ্র করে অবকাঠামো ও ব্যবসা বাণিজ্য উন্নয়নের গতি তরান্বিত হবে ;
  • জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে প্রান্তিক পর্যায়ের অবদান বৃদ্ধি পাবে ।

. মৌলভীবাজার জেলার পর্যটক আকর্ষণসমূহ

মৌলভীবাজার জেলার পর্যটক আকর্ষনসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো:

ক) চা বাগান :

পর্যটন স্থান ও ফটো

             স্থান ও ফটোর বিবরণ

 চা বাগান

চা বাগানঃ

মৌলভীবাজার জলোয় রয়ছেে বচৈত্র্যিময় পরবিশে, চা বাগান সমূহরে দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য, অভ্যন্তরীণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রকৃতকি অপার সৌর্ন্দয সমাহারে এ জলোটি অন্যান্য জলোর তুলনায় অনকেটাই ভন্নি। দশেরে ১৬৩টি চা বাগানরে মধ্যে মৌলভীবাজার জলোয় রয়েছে ৯২টি চা বাগান। যার কারনে মৌলভীবাজারকে চায়ের রাজধানীও বলা হয়।

খ) বাইক্কা বিলঃ

বাইক্কা বিল

বাইক্কা বিলঃ

শ্রীমঙ্গলে অবস্থতি বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এক সময় শুধু শীত কালে এখানে অতিথি পাখি আসতো কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বাইক্কা বিল পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। বার মাসই সেখানে পাখি দেখা য়ায়। শুধু পাখি নয় এখানে রয়েছে বড় বড় দেশীয় প্রজাতির মাছ তাও সম্ভব হয়েছে এখানে মাছের স্থায়ী আভয়াশ্রম গড়ে তোলায়। সেখানে পাখি দেখার জন্য নির্মিত হয়েছে একটি র্পযটন টাওয়ার। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র পর্যটন টাওয়ার। টাওয়ারটি ৩ তলা বিশিষ্ট। প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে ১টি করে শক্তিশালী বাইনোকোলার।

গ) বিটিআরআই রেস্ট হাউজঃ

 

বিটিআরআই রেস্ট হাউজঃ

বিটিআরআই রেস্ট হাউজঃ

বাংলাদেশের চা গবেষণা কেন্দ্রটি পড়েছে শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র ২ কি.মি. দূরে। কিন্তু ইহা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অর্ন্তভূক্ত। সংস্থাটিকে সংক্ষেপে সবাই বিটিআরআই বলে জানেন। বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস। অফিস গেটে রিকশা থেকে নামা মাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহারে ভরা ২টি ফুল বাগান, একটি বিটিআরআই এর অপরটি চা বোর্ডের। গেটের ভতের দখো যাবে ৫০/৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ। চা ম্যানুফকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব, গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ এখানে ভেষজ উদ্ভিদের বাগান রয়েছে। 

ঘ) মাধবপুর লেইক :

 

মাধবপুর লেইকঃ

মাধবপুর লেইকঃ

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর চা বাগানে লেকটির অবস্থান। এটি শ্রীমঙ্গল থেকে ১৫ কিঃমিঃ পুর্বে  অবস্থিত। মাধবপুর লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি মনোমগ্ধকর করে তুলে। এ লেকে নিচে রয়েছে হাজার হজার জীবন্ত গাছ। শত বছর আগে পাহাড়ী পানি জমে এর সৃষ্টি। ব্রিিটশ আমলে ইংরেজরা সেখানে বাঁধ দয়িে পানি আটকায় এবং সে পানিতে তারা স্পীড বোট ও নৌকা চড়তো । শত বছর আগেই ব্রিিটশরা এ স্থানে বিনোদনের খোড়াক মেটাতো। ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে এ লেকের বাঁধ ভেঙ্গে সব পানি চলে গিয়েছিল। পরর্বতীতে পাঞ্জাবী এক বাগান ব্যাবস্থাপক পাথর এনে শক্ত করে  এখানে বাঁধ দেন এর পর থেকে আর বাঁধ ভাঙ্গনে।ি এখানে রয়েছে ১০/১২ কেজি ওজনের বড় বড় মাছ। শ্রীমঙ্গল পরিবেশবিদ সিতেশ রঞ্জন দেব ব্যাক্তি উদ্যোগে এ লেকে হাজার হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন।

ঙ) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানঃ

 

 

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান 

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানঃ

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভেতর আড়াই হাজারেরও অধিক প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। যার মধ্যে একাধিক প্রাণীর  দেশের অনান্য বনে প্রায় বিলুপ্ত। এছাড়াও ১০ প্রজাতির সরিসৃপ, বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, বানর, সিভিট কেটসহ অর্ধশত প্রজাতির জীবজন্তু রয়েছে। এর ভিতরে রয়েছে কয়েকটি খাসিয়া পুঞ্জি, পার্কের পাহাড় বস্তিৃত লম্বা বৃক্ষে খাসিয়ারা খাসিয়া পানের চাষ করে। পার্কের এক পাশে রয়েছে আনারসের বাগান, এক পাশে চায়ের বাগান আবার কোথাও রয়েছে লেবুর বাগান। জঙ্গলের ভিতর রয়েছে কয়েকটি পাহাড়ি ছড়া। পুরো ন্যাশনাল পার্কটি শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ পাকা মহাসড়ক ও সিলেট আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের রেললাইন দ্বারা ৩ খন্ডে বিভক্ত। কিন্তু রেললাইন ও পাকা সড়ক দ্বারা বিভক্ত হলে ও উদ্যানরে ভিতর তেমন কোনো বাড়ি-ঘর নেই।

চ) বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ :

 

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ :

বীরশ্রেষ্ট সিপাহী হামিদুর রহমান মাতৃভূমির স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন অপারেশনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৭১ সনের অক্টোবর মাসের শেষদিকে মৌলভীবাজার জেলাস্থ কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান বিস্তৃত ধলই সীমান্তে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে উক্ত সীমান্ত চৌকি ও সংলগ্ন এলাকা মুক্ত করেন এবং সেখানেই শত্রু সেনার বুলেট বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে এই বীর সেনানীর অবদানের স্বীকৃতি সরূপ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানকে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।

ছ) হাম হাম জলপ্রপাতঃ

 

হাম হাম  জলপ্রপাত

হাম হাম জলপ্রপাতঃ

হাম হাম কিংবা হামহাম বা চিতা ঝর্ণা, বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে কুরমা বন বিট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত বা ঝরণা। জলপ্রপাতটি ২০১০ খ্রিস্টাব্দের শেষাংশে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মার সাথে দুর্গম জঙ্গলে ঘোরা একদল পর্যটক আবিষ্কার করেন। দুর্গম গভীর জঙ্গলে এই ঝরণাটি ১৩৫, মতান্তরে ১৪৭ কিংবা ১৬০ ফুট উঁচু, যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ঝরণা হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের উচ্চতা [১২ অক্টোবর ১৯৯৯-এর হিসাব অনুযায়ী] ১৬২ ফুট। তবে ঝরণার উচ্চতা বিষয়ে  কোনো প্রতিষ্ঠিত কিংবা পরীক্ষিত মত নেই। সবই পর্যটকদের অনুমান। তবে গবেষকরা মত প্রকাশ করেন যে, এর ব্যাপ্তি, মাধবকুণ্ডের ব্যাপ্তির প্রায় তিনগুণ বড়।  

জ)  মনিপুরী পল্লী ও মনিপুরী ললিতকলাঃ

 

মণিপুরী পল্লী ও মনিপুরী ললিতকলা 

মনিপুরী পল্লী ও মনিপুরী ললিতকলাঃ

ডঃ সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায়ের ভাষায় ‍“মনিপুরী জাতি বিরাট কিরাতজাতির ব্রক্ষশাখার অন্তর্গত কুকি(বা চিন অথবা কুকিচিন) প্রশাখার একটি বিশিষ্ট উপজাতি”। টিবেটোবার্মিজ শাখার মংগোলীয়ান জনগোষ্ঠীভুক্ত এই সম্প্রদায় বিষ্ণুপ্রিয়া, মীতৈ ও পাঙ্গাল এই তিনটি ভাগে বিভক্ত। মনিপুরী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা,হস্তশিল্প এবং মনিপুরী ললিতকলা পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয়।মণিপুরী উপজাতি সম্প্রদায় বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ এ জেলার অন্যান্য উপজেলায় এদের বসবাস। মনিপুরী ললিতকলা একাডেমী কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মনিপুরীদের সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রেখে যাচ্ছে।

ঝ) হাকালুকি হাওড়ঃ

 

হাকালুকি হাওড়

হাকালুকি হাওড়ঃ

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত। পূর্বে পাথারিয়া পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল নম্নিাঞ্চল জুড়ে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত। এ বিশাল জলরাশির মূল প্রবাহ হলো দুটো প্রধান নদী জুড়ি ও ফানাই, বর্ষাকালে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে হাওড় সংলগ্ন সমগ্র এলাকা প্লাবতি হয়ে সাগরের রূপ ধারণ করে।

হাকালুকি হাওড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ছোট বড় মাঝারী বিল রয়েছে। হাওড়রে স্থায়ী জলাশয়গুলো পানিতে নিমজ্জিত, ভাসমান, জলজ, তৃণ এবং র্দূবাঘাস এবং নল খাগড়া জাতীয় উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। শীতকালে মৎস্য আহরণ এবং অতিথি পাখেিদর আগমন পর্যটকদের নয়নমন সার্থক করে। উক্ত হাওড়কে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষনা করে ইতোমধ্যেই পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে।

ঞ) মনু ব্যারেজ :

 

মনু ব্যারেজ

মনু ব্যারেজঃ

মৌলভীবাজার জলোর সদর উপজলোর শমসেরনগর সড়কের মাতারকাপন এলাকায় অবস্থিত। মনু নদীর উপর একটি ব্যরেজ আছে। তাছাড়া এখানে মনু নদীর পুরাতন অংশে অত্যন্ত মনোরম একটি লেক রয়েছে। বর্ণিত স্থানের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী  অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এখানে প্রতিদিন প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে।

ট)  মাধবকুন্ড জলপ্রপাতঃ

 

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

মাধবকুন্ড জলপ্রপাতঃ

মৌলভীবাজার জলোর বড়লখো উপজলোয় মাধবকুন্ড জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলা হতে পাহাড়ি ঝর্নার পতিত জলরাশি পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয়। এ জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। জলপ্রপাতের চতুর্দিকে বিশাল বনভূমি অবস্থিত। মাধবকুন্ড ইকোপার্কে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটে। তাছাড়া এ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত সংলগ্ন কুন্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনী স্নান হয় এবং মেলা বসে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এটি একটি তীর্থ স্থান।

ঠ) আগর শিল্প :

 

আগর শিল্প :

আগর শিল্প :

আগর-আতর বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর অন্যতম একটি প্রাকৃতিক সুগন্ধি পণ্য। জানা যায়, মুঘল আমলে এ পণ্য অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানেও দেশে-বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জানা যায়, বর্তমান আগর-আতর চাষীরা তাদের ১০-২০ পূর্ব পূরুষ আগে থেকে এ শিল্পের সাথে জড়িত। এ আগর-আতর শিল্প বর্তমানে বড়লেখা উপজেলার সুজানগরে অবস্থিত। সরকারের এক জেলা এক পণ্য হিসেবে মৌলভীবাজার জেলায় আগর-আতর শিল্পকে বেছে নেয়া হয়েছে। এখানে রয়েছে প্রায় ২০০টির মতো ছোট-বড় কারখানা। এখানকার উৎপাদিত আগর-আতর শতভাগ বিদেশে রপ্তানী হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। আতর শিল্পের নান্দনিক প্রক্রিয়া অবলোকনে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। সম্ভাবনাময় এ সুগন্ধি শিল্প বিকশিত হলে, সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে এবং সর্বোপরি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ স্থান করে নিতে পারবে

ড) হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এর মাজারঃ

 

হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এর মাজারঃ

হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এর মাজারঃ

মৌলভীবাজার শহররে সয়ৈদ শাহ মোস্তফা রোডরে র্পাশ্বে হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এর মাজার অবস্থতি।মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক থেকে আগত হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) এখানে ইসলাম প্রচারের জন্য আসেন। তিনি হযরত শাহ জালাল (রঃ) এঁর ৩৬০ আউলিয়ার মধ্যে অন্যতম। জনশ্রুতি আছে তিনি বাঘের পিঠে করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। তাঁর ইন্তেকালের পর এখানেই তাঁকে কবর দেয়া হয় এবং মাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় ৪০০ বছর যাবৎ এখানে বাৎসরিক ওরস মোবারক পালিত হয়ে আসছে। তাছাড়া প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসা যাওয়া করে।

ঢ) গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ :

 

গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পাঁচ তারকা মানের ‘গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গল্ফ’ নামের একটি হোটেল রয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আন্তর্জাতিক মানের অতিথি সেবা প্রদান করে আসছে এবং এতে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলন, এডিবি সম্মেলন, বিশ্ব  ব্যাংক সম্মেলন ছাড়াও বিভিন্ন দেশী-বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ণ) ‘দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা’ :

 

দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা

‘দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা’  :

মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলায় চার তারকা মানের আরও একটি হোটেল রয়েছে। যার নাম হচ্ছে ‘দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা’। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আন্তর্জাতিক মানের অতিথি সেবা প্রদান করছে। ইতোমধ্যে  বিভিন্ন দেশী-বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীর বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ত) পৃথিমপাশা নবাব বাড়ী:

 

পৃথিমপাশা নবাব বাড়ী

পৃথিমপাশা নবাব বাড়ী

প্রায় দুইশ’ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে টিকে আছে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি (নবাব বাড়ি)। মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পূর্বে এই জমিদার বাড়ির অবস্থান। জমিদার বাড়ির কারুকার্যময় আসবাবপত্র, মসজিদের ফুলেল নকশা, ইমামবাড়া, সুবিশাল দীঘি যে কাউকে আকৃষ্ট করতে যথেষ্ট। প্রায় ২৫ একর জমির ওপর অবস্থিত এই জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এখানকার ইমামবাড়া। জানা যায়, শ্রীহট্ট (সিলেট) সদরে মোহাম্মদ আলী নামে এক কাজি ছিলেন। ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে নাগা ও কুকিদের বিদ্রোহে মোহাম্মদ আলী বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে ইংরেজদের সাহায্য করেন। ইংরেজ সরকার এতে খুশি হয়ে মোহাম্মদ আলীর ছেলে গৌছ আলী খাঁকে ১২০০ হাল বা ১৪ হাজার ৪০০ বিঘা নিষ্কর জমি দান করেন। তবে বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে স্বনামধন্য এবং বড় জমিদার ছিলেন আলী গৌছ খাঁর পৌত্র নবাব আলী আমজদ খাঁ। তিনি সমাজসেবক ও পরোপকারী হিসেবে সমগ্র বাংলা এবং আসামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার সময় এই জমিদার বাড়িতে মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরসহ বহু ইংরেজ ভ্রমণ করে গেছেন।

থ) বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক :

 

বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক

বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক

মৌলভীবাজার শহরের পূর্বদিকে অবস্থিত বর্ষিজোড়া ইকো-পার্ক। শহর সংলগ্ন হওয়ায় রিক্সায় করে সহজে যাতায়াত করা যায়। পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে।

দ) খাসিয়া পল্লী :

 

খাসিয়া পল্লী

খাসিয়া পল্লী

খাসিয়াজয়ন্তিয়া পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীরা খাসি বা খাসিয়া নামে পরিচিত। নৃবিজ্ঞানী শরৎ চন্দ্র রায় এর মতে প্রাগৈতিহাসিক যুগে আর্যভাষাভাষী জাতির ভারতে আগমনের ফলে অষ্ট্রিক জাতিভুক্ত মানবগোষ্ঠী ক্রমশ: উত্তর পূর্বদিকে পশ্চাৎপসারণ করতে বাধ্য হয়। তাদেঁরই নানা বিছিন্ন গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে ভারতসীমান্ত অতিক্রম করে বর্মা বর্তমান মায়ানমার,শ্যামদেশ বর্তমান থাইল্যান্ড,ইন্দোচীন ইত্যাদি দেশে পাড়ি জমিয়েছিল। এদেরই একটি বিছিন্ন শাখা মধ্য আসামে থেকে গিয়েছিল এবং এরাই খাসিয়াদের পূর্ব পুরুষ। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় মৌলভীবাজারেও খাসিয়ারা বসবাস করে । পাহাড়ী টিলায় কয়েকটি পরিবার মিলে একত্রে বসবাস করে থাকে। এদের বসবাসের এলাকাকে পুঞ্জি নামে আখ্যায়িত করা হয়।

৬. লোগো ও  স্লোগান:

চাযের বাগানের নান্দনিক সৌন্দর্য মৌলভীবাজারকে পরিচিতি এনে দিয়েছে  প্রকৃতি কন্যা হিসেবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান এ জেলাতেই অবস্থিত। তাছাড়া মৌলভীবাজার তথা শ্রীমঙ্গলের চা  দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষভাবে পরিচিত। তাই ‘চা’ কে ভিত্তি করে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের লোগো নির্বাচন করা হয়েছে। (উপস্থাপিত লোগোটি খসড়া এবং উন্নয়নের কার্যক্রম চলমান আছে)।

মৌলভীবাজার জেলার জেলা ব্র্যান্ডিং স্লোগান :

“চায়ের দেশ-মৌলভীবাজার”

 

‘Moulvibazar-The land of tea’

৭. মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা

এ জেলায় বছরে আনুমানিক ২,০০,০০০ (দুইলক্ষ) পর্যটকের আগমন ঘটে। জেলায় শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের জন্য রয়েছে ৩০টি আবাসিক/রিসোর্ট রয়েছে এবং ৩৫টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বিভিন্ন পর্যটন স্থানে ভ্রমণের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে বাস, সিএনজি, ইজিবাইক, রিক্সা ইত্যাদি।

৮. কাঙ্খিত ফলাফল

পর্যটনকে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নিম্নোক্ত ফলাফলসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে:

  • পর্যটকদের আগমনের হার বার্ষিক ৭৫% বৃদ্ধি করা
  • বার্ষিক ১০০ জন স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি করা
  • বার্ষিক ৫০০০ জনের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা
  • দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করা
  • চা শিল্পের সার্বিক বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয়দের আর্থ সামাজিক অবস্থা উন্নত করা
  • স্থানীয় পর্যটনে প্রবৃদ্ধি ১০০% বৃদ্ধি করা।

৯. সোয়াট (SWOT) বিশ্লেষণ

সার্বিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুবিধার্থে প্রাথমিকভাবে পর্যটনের শক্তি, দুর্বলতা, সম্ভাবনা ও হুমকি বিশ্লেষণ নিম্নরূপ :

শক্তি

জৈববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ

চাবাগানসমূহের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য,

অভ্যন্তরীন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা

একাধিক পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান, স্থিতিশীল আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি, অতিথি পরায়ন জনগোষ্ঠী

 

সম্ভাবনা

ইকোপার্ক ও ইকোট্যুরিজম,

আবাসন শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি

পর্যটক গাইড বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান, পর্যটন হোটেল, মোটেল ও রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা,

স্থানীয় পর্যটক স্থানগুলোতে সুযোগ বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি,

হাকালুকিহাওরে হাওর রোড এবং রেলপথ নির্মানের মাধ্যমে উন্নয়ন

 

হুমকি

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা

পরিবেশ দূষণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

 

দুর্বলতা

পর্যটক গাইডের অভাব

চা বাগান কেন্দ্রিক কোন ডেস্টিনেশন স্পট নেই

বিমান বন্দর নেই

দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা

পর্যটন সংক্রান্ত ওয়েব সাইট নেই

 

 

SWOT

বিশ্লেষণ

ক) শক্তি:

জৈববৈচিত্রে সমৃদ্ধ: পাহাড়, টিলা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, হাওড়/বাওড়/বিল, ঝর্ণা, নদ-নদী পরিবেষ্টিত এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এ জেলা ইকো ট্যুরিজমের (Eco-Tourism)জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে এখানে প্রতি বছর বহু সংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যটক ভ্রমণ করেন।

চাবাগানসমূহের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য:  মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, চা বাগান সমূহের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ।প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য সমাহারে এ জেলাটি অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন।

আভ্যন্তরীন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা:  মৌলভীবাজার জেলায় ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা । তাছাড়া জেলার একাধিক পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানসমূহের সাথে আভ্যন্তরীন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

একাধিক পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান:  মৌলভীবাজার জেলার অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, পৃথিমপাশা নবাববাড়ী, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট, মনু ব্যারেজ, মাধবপুর চা-বাগান লেক, মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী, মাধবকুন্ড, হামহাম জলপ্রপাত, প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রান্সমিশন প্লান্ট, কমলা/লেবু/আনারস বাগান, গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ ইত্যাদি।

খ) দূর্বলতা

পর্যটক গাইডের অভাব: এ জেলায় পর্যটকদের তথ্য বা জ্ঞান সরবরাহের জন্য কোন উপযুক্ত ট্যুরিষ্ট গাইড নেই। ট্যুরিষ্ট গাইড এর অভাবে  চা বাগানের আশে পাশে এমন অনেক সুন্দর স্থান রয়েছে যেগুলো পর্যটকদের পরিচিতির অভাব এবং অচেনা রাস্তাঘাটের কারণে সেসব স্থানে ঘুরে আসার পথে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।  তাছাড়া ট্যুরিষ্ট পুলিশের হেল্প লাইন সম্পর্কে সকলে অবহিত নন। 

চা বাগান কেন্দ্রিক কোন ডেস্টিনেশন স্পট নেই: মৌলভীবাজার জেলা চা কেন্দ্রিক ডেষ্টিনেশন হলেও ব্যাপকভাবে চা বাগান কেন্দ্রিক কোন ডেস্টিশেন স্পট/পিকনিক স্পট নেই। 

বিমানবন্দর নেই:  মৌলভীবাজার জেলার সমশেরনগর এলাকায় একটি পুরতন পরিত্যক্ত বিমান বন্দর রয়েছে। উক্ত বিমান বন্দরটি চালু করা গেলে পর্যকটদের ব্যাপক সমাগমন ঘটবে। উল্লেখ্য যে এ জেলার আনেকেই লন্ডন প্রবাসী।

দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা:  মৌলভীবাজার জেলায় পৌছানোর পর পর্যটকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে অন্যান্য দর্শণীয় স্থানের অপরূপ সৌন্দর্ষ্য উপভোগ করার জন্য। কিন্তু পর্যটকদের আশায় অনেকটাই  বাঁধ সাজে দীর্ঘপথ ভ্রমনের ক্লান্তি। আর এই  ভ্রমণের ক্লান্তি বহুগুন বৃদ্ধি পায় এই দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থার কারণে।

 

পর্যটন সংক্রান্ত ওয়েবসাইট নেই: মৌলভীবাজার জেলা চা কেন্দ্রিক ডেষ্টিনেশন হলেও পর্যটন স্থান সমূহের তথ্য সরবরাহের জন্য কোন  ওয়েব সাইট এবং কোন স্পট ম্যাপ নেই।

গ) সম্ভাবনা

ইকোপার্ক স্থাপন: এ জেলার খাসিয়া ও মণিপুরী পল্লীতে কয়েকটি ইকোপার্ক স্থাপন করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। এই পার্কগুলোর মাধ্যমে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। যখন তারা চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগে বের হবে তখন তারা সেখানে কিছু সময়ের জন্য হলেও ঘুরে দেখবে।

আবাসন শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি: প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক মৌলভীবাজার জেলার আসে এখানকার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। কিন্তু পর্যটন মৌসুমে আবাসন ব্যবস্থার সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই ব্যাপকভাবে হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট নির্মাণ করা হলে আবাস শিল্পের সমস্যা সমাধান সহ ব্যপক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। 

পর্যটক গাইড ব্যবসা: চা বাগানের আশে পাশে এমন অনেক স্থান রয়েছে যেগুলো সৌন্দর্য-পিয়াসু পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কিন্তু সেসব স্থানে ঘুরে আসার পথে অন্তরায় হিসেবে  কাজ করে পরিচিতির অভাব এবং অচেনা রাস্তাঘাট। এই সম্ভাবনাময় সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে পর্যটক গাইড ব্যবসা গড়ে তোলা হবে।

স্থানীয় পর্যটক স্থানগুলোতে সুযোগ বৃদ্ধি: পর্যটকদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সহজেই এ জেলাকে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য আরো উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়। এ লক্ষ্যে বিনোদনের ব্যবস্থা অন্তর্ভূক্ত করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা, কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী, বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওড় এবং চা বাগানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানকে সম্পৃক্ত করে একটি প্যাকেজ তৈরী করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ জেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঘ) হুমকি

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা: পর্যটন ব্যবসার উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয় দর্শনীয় স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে । স্থানের সৌন্দর্য পর্যটকদের ভ্রমণে উৎসাহী করে তোলে কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব পর্যটকদের ভ্রমণে অনুৎসাহিত করে তোলে।

পরিবেশ দূষণ : জেলার বিভিন্ন পর্যটক আকর্ষণীয় স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ব্যবহৃত জিনিসের অপ্রয়োজনীয় অংশ যেমন- চিপসের প্যাকেট, বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক, পানির বোতলসহ আরও অনেক কিছু। এগুলো যেমন এসব স্থানের সৌন্দর্যের অন্তরায় ঠিক তেমনি পরিবেশ দূষণেও রাখে অগ্রণী ভূমিকা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ :  মৌলভীবাজার জেলার প্রধান নদী হিসেবে মনু, ধলাই, জুড়ী, সোনাই ও কুশিয়ারা নদী রয়েছে। হাওরের মধ্যে কাওয়াদিঘী হাওর, হাইল হাওর ও হাকালুকি হাওর অন্যতম। অতি বৃষ্টি এবং পাহাড়ী ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়।

১০. জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মুল্যবোধকে ব্র্যান্ডিং এ সম্পৃক্তকরণ

চা শিল্প ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার অনেক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (যেমন : খাসিয়া, মণিপুরী, ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইত্যাদি) রয়েছে। পর্যটকরা যেন পর্যটনের পাশাপাশি এসব কিছু উপভোগ করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।